অধিরাজের কবিতা
অ চি ন্ত নী য়
সন্ধ্যার তারা জ্বলে উঠে আকাশে
রাতের শান্ত অন্ধকার গ্রাস করে
আমার সবটুকু চিন্তা
আমি হয়ে যাই অন্য কোন গ্রহের মান্যু
একাকার হয়ে যাই
আমার আমিত্বে
খুঁজে ফিরি আমার সুখ
সে কোথায় জানি না ।
আমি নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে রই
হাত বাড়িয়ে ছুঁতে গিয়ে দেখি
আমি নির্জন কোন এক দ্বীপে
একা … বন্ধুহীন
একটি চাঁদ, মৃদু আলো আর
আমার অন্ধকার ।
রুবেলের কবিতা
য খ ন ত খ ন
যখন দেখবে আমি নেই
তখন ভাববে আমি আছি
যখন ভাববে আমি নেই
তখন দেখবে আমি আছি
নিউটন চৌধুরীর কবিতা
অ ক্ষ য় তু মি
বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে শুদ্ধ হও তুমি
বৃষ্টির জলে যাক চলে
তোমার সমস্ত পাপ
রাশি রাশি কৃত্রিম হাসি
যত বাসি, জঙ্গল মনের।
রোদে মেলে ধরো ডানা ,
দিক হানা।
অজানা কুৎসিত যত হোক ক্ষয়
আমি জানি ভেতরের সেই তুমি
আজো আছো অক্ষয়।
গোঁসাই পাহ্লভীর কবিতা
মা ফ চায় প্র থ ম, আ লো না ম তি
খুব কাছাকাছি। হলো শ, সংযোগ।
দুই এক হোতে
সময় শূন্য সামথিং সেং।
এক হয় দুই হয় তিন চার পাঁচ
ছয় হয় এ খবর প্রথম আলো দিলো।
সূর্য উঠার আগেই পয়দা হোল আলো
ভালো ! তালও.. .. ..
রাজীব দত্তের কবিতা
এ টা ই ক বি তা
পাশের সিটে গোমরামুখে বসে আছে একজন। কই, জিজ্ঞেস করি নি তো; মন খারাপ আপনার ? তুই বলেই তোকে বিষণ্ন দেখে খুউব, বসে পড়লাম তোর পাশে, কী লিখছি এসব হাবিজাবি। নির্ঝরদা বললেন বলেই কবিতা প্রসবের চেষ্টা, প্রসব? প্রসবও হচ্ছে কই, এতো আত্মমৈথুন, পাঠক বিরক্ত হচ্ছেন, হোন, যত্তো ইচ্ছে, আপনি বিরক্ত হতে পারেন, এর বাইরে আমি কিছুই লিখবো না। পড়নে বা না পড়েন, এই-ই কবিতা। গুটিকয় লোক চাইলেই যদি হাজারে হাজারে লাখে লাখে কোটিতে কোটিতে মানুষ মারতে পারে, আমার এই নিরীহ শব্দ কতিপয়, যদি কবিতা দাবি করে, আপনাদের সমস্যা কই? তাই মানেন বা না মানেন- আমাদের মাস্টারবেশনও কবিতা, আমাদের প্রিয় কবিতা।
রাসেলের কবিতা
আমি তোমারে দেখি
বন্ধদুয়ারের ফাঁকে
নিষিদ্ধ উঁকি।
১১.১২.০৭.
ফরিদ মজুমদারের কবিতা
ব র ই ত লা ক থ ন
প্রতিদিন ঘোরে পাহাড়ে
মন কাটালে: ঘুঘু আর বনশালিকের ঘরে
আমরা সঙ্গোপনে রাঙাই স্বপন।
বরইতলায় এখন আর আগের মত ব্যস্ত হই না;
আমরা এসে ডুবে যাই যে যার ঘরে।
প্রতিদিন প্রতিদিন এই উর্বরভূমে বন্ধ্যার মতো
বসে থাকি।
আমাদের দেনা আছে এইখানে;
নিয়েছি তো ঢের;
এইবার ক্ষরণের কাল।
মানস চাঁদের কবিতা
ভো লা গা থা
এমনই গাধা আমি ক্ষমতা এক মনের
কাঁধে চাপাই শতমন ভারী বস্তা।
স্বচ্ছপানি দেখি না চোখে
তাই বুঝি ঘোলাই শুধু জীবন
মূলের চিন্তায় শুধু হাঁটি
গলদ হই কামনায়
পুতি পানাহারে হই সুখি।
১০.১২.০৭
নীলাভ ভাষ্করের কবিতা
ম হা শূূ ন্য বা সী : ফি র তি প থে র গ ল্প
কার্তিকের ওলানে মহাশূন্যবাসী
গড়াইতে করেছিল চন্দ্রস্নান।
মনে ধরলো তার দিবে পাড়ি লক্ষযোজন
ব্যবস্থাপত্র করে রওনা হলো জোছনার পথ ধরে।
হঠাৎ থেমে গেল, মনে পড়লো কিছু।
বামন পাবলিশার্সে শ্বেতপাথরের টেবিলে
পড়েছিলো তার শেষ পাণ্ডুলিপিটা।
সেই পাণ্ডুলিপির সাথে কোটিযোজন
দূরত্ব, তার এই পথচলার।
তাই সে রাতের মতো যাত্রাকে শেষ করে
ফিরে গেলো শ্বেতপাথরের টেবিলে
পাণ্ডুলিপির সংশোধনে।
এস এম আরীফের কবিতা
যাকিছু পাই
অকারণে পাই
দ্বিধাহীন চোখে তুলে নেই হাতে
যা কিছু হারাই
কারণ কী তার
চক্ষু এড়াতে পারে?
সমাপ্তির কবিতা
কুয়াশা
তার সবটুকু অনুভুতি দিয়ে
রচনা করে গেছে শিশিরের গল্প।
শিশির পড়ে আছে সবুজের কোমলতা ছুঁয়ে
আর আলোর সব রঙ ছড়িয়ে
জানিয়ে যাচ্ছে জীবনের সময়
অল্প
ঐ বিশাল কোনোদিন জানবে না
তার সীমানা খুঁজে ফিরতে মেঘের
কতো বাহানা
ডানা মেলে, রঙ নিয়ে
উড়ে যায়
ক্ষণে ক্ষণে
দূর থেকে দূরে
অনন্তের অন্তরীক্ষে
তবু সে অনন্ত তাকে ধরা দেয় না।
০৯.১২.০৭.
নির্ঝর নৈঃশব্দ্যের কবিতা
আর ওখানে দুচোখের ক্ষিপ্ররাতে
নির্জনমাঠের খেলা…
দিনভর ফালি ফালি করে শস্যের খেত চিরে বের
করা মায়াবিগ›ধ
ক্রমশ অনূদিতচোখ
যে-চোখ ছিলো মাছের গাছের ক্ষীণতোয়া জলার
বৃশ্চিকফসলের দেশে মায়াবি আরক চুরি গেলে তারপরও
অমরত্বের স্বপ্ন প্রলম্বিত করে পাখিস্বভাব…
দূরপাহাড়ের ছায়া খুঁজে ফেরে কে কার
স্তনের সকাশে
জানে না অবিনাশি ভুল
কে কবে পান করে ছায়া রাশি রাশি
নপুংসকের ঠোঁটেও জেগে থাকে একা
বাঁশপাতার বাঁশি
০১.০৪.০৫.
